
এই হোটেলে হানিমুন করেছিলেন শাহরুখ শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত? বলিউডের বাদশার জীবনের কিছুটা স্বাদ পেতে চান? তাহলে আর দেরি কেন! ঘুরে আসুন দার্জিলিং থেকে। কারণ, দার্জিলিংয়েই গৌরিকে নিয়ে হানিমুনে গিয়েছিলেন শাহরুখ। আর যে হোটেলে তিনি স্ত্রী-কে নিয়ে উঠেছিলেন সেটি আজও আছে।
আসলে বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় প্যারিস যাওয়ার কথা দিয়েছিলেন শাহরুখ। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত প্যারিস যাওয়া হয়নি। বদলে গন্তব্য হয়েছিল দার্জিলিং। আর সেখানেই স্ত্রী গৌরীকে নিয়ে উঠেছিলেন দার্জিলিংয়ের 'দ্য এলগিন' হোটেলে। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই হোটেল আজও রয়েছে। আপনিও চাইলে সেখানে গিয়ে কাটাতে পারেন কয়েকটা দিন।
রাজবাড়ি থেকে হেরিটেজ হোটেল, কোথায় ছিলেন শাহরুখ?
দার্জিলিংয়ের যে হোটেলে স্ত্রী গৌরীকে নিয়ে ছিলেন শাহরুখ, তার নাম দ্য এলগিন (The Elgin)। ১৮৮৭ সালে তৈরি হয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি। প্রথমে এটি ছিল কোচবিহারের মহারাজার মালিকানাধীন একটি ম্যানর হাউস। বর্তমানে সেটিই পরিণত হয়েছে জনপ্রিয় হেরিটেজ হোটেলে।
দার্জিলিং শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই হোটেলে এখনও ধরে রাখা হয়েছে পুরনো দিনের রাজকীয় পরিবেশ। কাঠের পালিশ করা মেঝে, প্রাচীন আসবাবপত্র, ঐতিহ্যবাহী অন্দরসজ্জা এবং ফায়ারপ্লেস হোটেলটির বিশেষ আকর্ষণ। আধুনিক হোটেলের চাকচিক্যের বদলে এখানে পাওয়া যায় ঔপনিবেশিক আমলের পাহাড়ি বাড়ির আবহ।
শুধু শাহরুখ খানই নন, ফরাসি লেখক ডমিনিক লাপিয়ের, সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টুলির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও এই হোটেলে থেকেছেন। মডেল ও অভিনেতা মিলিন্দ সোমনেরও এই হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এক রাত থাকতে কত খরচ?
শাহরুখ-গৌরীর স্মৃতিবিজড়িত এই হোটেলে থাকতে চাইলে খরচ অবশ্য একটু বেশি হতে পারে। অনলাইন বুকিংয়ের বিভিন্ন তালিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু তারিখে প্রতি রাতের ভাড়া শুরু হতে পারে প্রায় ১২ হাজার টাকা থেকে। তবে ঘরের ধরন, ভ্রমণের সময় এবং খাবারের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে ভাড়া বাড়তে পারে।

হোটেলে রয়েছে একাধিক ধরনের ঘর। তার মধ্যে রয়েছে ডিলাক্স রুম, অ্যাটিক রুম এবং বিভিন্ন ধরনের স্যুইট। তাই বুকিংয়ের আগে নিজের বাজেট অনুযায়ী ঘর বেছে নেওয়া জরুরি। ভাড়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে না নিয়ে হোটেলের সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ দাম দেখে নেওয়াই ভাল।
প্যারিসের বদলে দার্জিলিংয়ে হানিমুন করেছিলেন শাহরুখ-গৌরি
শাহরুখ খানের জীবনের এই মজার কাহিনি তিনি নিজেই শুনিয়েছিলেন ২০১৯ সালের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে গৌরীকে বিয়ে করেন বলিউড বাদশা। বিয়ের পর স্ত্রীকে প্যারিসে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর হাতে বিমানের টিকিট কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা ছিল না।
এরপর রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান ছবির একটি গানের শুটিংয়ের জন্য দার্জিলিংয়ে যান শাহরুখ। সঙ্গে নিয়ে যান গৌরীকেও। স্ত্রীকে মজা করে বলেছিলেন, তাঁরা নাকি প্যারিসে এসেছেন! বিয়ের প্রায় ২০-৩০ দিন পর এই দার্জিলিং সফর হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন অভিনেতা।
সেই সফরই পরবর্তী সময়ে শাহরুখ-গৌরীর প্রেমের কাহিনির অন্যতম মিষ্টি স্মৃতি হয়ে ওঠে। আর সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দার্জিলিংয়ের একটি রাজকীয় হোটেল।

দার্জিলিং গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
শুধু শাহরুখের স্মৃতিবিজড়িত হোটেলে থাকলেই তো হবে না! দার্জিলিং গেলে ঘুরে দেখতে পারেন শহরের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় জায়গা।
১. দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে টয় ট্রেনে সফর দার্জিলিং ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
২. মল: দার্জিলিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা চৌরাস্তা। এখানে কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারেন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে পাহাড়ের মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।

৩. হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট: চায়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত দার্জিলিং। ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট ঘুরে দেখতে পারেন। চা তৈরির প্রক্রিয়া এবং দার্জিলিংয়ের চা-বাগানের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ মিলবে।
৪. টাইগার হিল: দার্জিলিংয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র টাইগার হিল। ভোরে সূর্যোদয়ের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় জমে এখানে। তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে পাহাড়ের দৃশ্য দেখা নাও যেতে পারে।
তাহলে শাহরুখ-গৌরীর হানিমুনের স্মৃতিবিজড়িত হোটেলে কয়েকটা দিন কাটানোর ইচ্ছে হচ্ছে তো? দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে তালিকায় রাখতে পারেন 'দ্য এলগিন'-কে।