Saima Wazed: একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে, WHO-র উচ্চপদে ইস্তফাই দিতে হল হাসিনা কন্যা সাইমাকে

ইস্তফাপত্রে সাইমা দাবি করেছেন, তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। নানা বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, 'আমার রিজিয়নের দেশগুলিকে পরিষেবা দিতেই রিজিয়নাল ডিরেক্টর পদে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। আমি তা পালন করেছি।' তেদ্রোসের নেতৃত্বের উপরে তিনি আস্থা হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বেতনে ছুটিতে তাঁর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। 

Advertisement
একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে, WHO-র উচ্চপদে ইস্তফাই দিতে হল হাসিনা কন্যা সাইমাকেশেখ হাসিনা ও সাইমা ওয়াজেদ (বাঁ দিক থেকে)
হাইলাইটস
  • WHO-র নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়েছি: সাইমা
  • ঠিক কী কী অভিযোগে তদন্ত চলছে হাসিনার কন্যার বিরুদ্ধে?
  • বাংলাদেশে জমি দখলের অভিযোগ

এ বার দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র উচ্চপদের চাকরিতে ইস্তফা দিতে হল শেখ হাসিনার কন্যা সাইমা ওয়াজেদকে। WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর পদে ছিলেন সাইমা। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্গের হেল্থ এজেন্সি, বাংলাদেশ সরকার জমি প্রতারণার তদন্ত করছে। এর মধ্যে তিনি ইস্তফা দিলেন। 

WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রিজিয়নাল ডিরেক্টর পদে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে যোগ দিয়েছিলেন সাইমা ওয়াজেদ। তখন তাঁর মা শেখ হাসিনা ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ৫ বছরের চুক্তিতে WHO-তে যোগ দেন সাইমা। গত বছর থেকেই তিনি আনপেইড লিভ বা বেতনহীন ছুটিতে ছিলেন। বাংলাদেশে বেআইনি ভাবে জমি দখল, আর্থিক প্রতারণা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়ো ডিগ্রি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে সাইমার বিরুদ্ধে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারই WHO-র ডিজি তেদ্রস আধানম গেব্রেসুসকে ইস্তফাপত্র দিয়েছেন হাসিনার কন্যা।

WHO-র নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়েছি: সাইমা

ইস্তফাপত্রে সাইমা দাবি করেছেন, তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। নানা বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, 'আমার রিজিয়নের দেশগুলিকে পরিষেবা দিতেই রিজিয়নাল ডিরেক্টর পদে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। আমি তা পালন করেছি।' তেদ্রোসের নেতৃত্বের উপরে তিনি আস্থা হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিনা বেতনে ছুটিতে তাঁর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। 

ঠিক কী কী অভিযোগে তদন্ত চলছে হাসিনার কন্যার বিরুদ্ধে?

২০২৫ সালের জুলাই থেকে সাইমা ওয়াজেদকে ছুটিতে পাঠায় WHO। কারণ, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী কমিশন ওই বছর মার্চে সাইমার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩ জুলাই Wazed-এর আইনজীবীরা WHO-কে একটি পৃথক চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, চিন সফর সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে WHO। তবে সাইমা ওয়াজেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি জানিয়েছেন, চিন সফরের ক্ষেত্রে মাত্র ৯০১ ডলারের বিষয় ছিল এবং নিয়মিত খরচের টাকা ফেরত পাওয়ার আবেদন দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ওয়াজেদের দাবি, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি WHO প্রধান তেদ্রোসের কাছেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে জমি দখলের অভিযোগ

জমি দখল সংক্রান্ত যে অভিযোগে তদন্ত চলছে সাইমার বিরুদ্ধে, সেই প্রসঙ্গে হাসিনা কন্যার দাবি, বাংলাদেশের একটি আইনের আওতায় তিনি ওই সম্পত্তির অধিকারী হয়েছেন। ওই আইনটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।

POST A COMMENT
Advertisement