
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু-র সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন এক ছাত্রইসলামিক NATO-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা, BRICS সামিটে বার বার আমন্ত্রণ সত্ত্বেও তারেক রহমানের ভারত সফরে না আসা, পাকিস্তানের সঙ্গে দোস্তি বাড়ানো, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাকিস্তান প্রেম বেশ চোখে পড়ার মতো। এটি ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই। এ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের DUCSU অর্থাত্ ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জন্মদাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি রাখাকে ঘিরে বিতর্ক চলছে।
বাংলা বিরোধী জিন্নাহ এখন স্থান পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
বস্তুত জিন্নাহ এবং পাকিস্তানের উর্দু ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। সেই বাংলা বিরোধী জিন্নাহ এখন স্থান পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায়। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিসের প্রকাশিত পুস্তিকায় পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে বাংলা ও উর্দু, দুই ভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় জিন্নাহ ঘোষণা দেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা।
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই দেশভাগ হয়েছিল। সেই জিন্নাহকে এখন মাথায় তোলা হচ্ছে পাকিস্তানে। ভুলে যাচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের আন্দোলন।

কীভাবে বিতর্কের সূত্রপাত?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালা সংস্কারের পরে গত রবিবার খোলা হয়। দেখা যায়, বাংলাদেশের জনক বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কোনও ছবিই নেই। তার বদলে মহম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি।

বর্তমান বাংলাদেশের পাকিস্তান প্রেম চোখে পড়ার মতো। তবে ডাকসু-র সংগ্রহশালায় এই কীর্তিতে প্রতিবাদের ঝড়ও উঠেছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র শাহরিয়ার মুসতাক ফেসবুকে লেখেন, ‘আর কত সময় হলে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে এই ডাকসুর? রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিরোধিতাকারীর ছবি স্থান পায় ডাকসুর সংগ্রহশালায়!’ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশনসহ একাধিক সংগঠনও জিন্নাহর ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। এক ছাত্র জিন্নাহর তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নাম আবু তৈয়ব হাবিলদার।
কী বলছে DUCSU?
DUCSU-র তরফে কী সাফাই দেওয়া হল? ডাকসু-র সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের দাবি, জিন্নাহর ছবির নীচে তাঁর বাংলাভাষা বিরোধী অবস্থানের বিষয়টিও উল্লেখ ছিল। যদিও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, আসলে বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে ফেলার প্রবল চেষ্টা চলছে।