
বাংলাদেশে বিপর্যয় বাংলাদেশের মাদ্রাসার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ভূমিধসের জেরে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই শিশু। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাঁচ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকার্য।
গতকাল বুধবার প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধস নামে। সেখানে একটি মাদ্রাসায় অস্থায়ি শিবির রয়েছে রোহিঙ্গাদের। সেই মাদ্রাসার একটি অংশ ভেঙে পড়ে। আবার ধসও নামে। আর তার তলায় চাপা পড়ে যায় শিশুরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টানা ভারী বৃষ্টির জেরে মাদ্রাসার একাংশ ধসে যায়। তখন সেখানে ৩০ জনেরও বেশি শিশু কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। আচমকা মাদ্রাসা ভবনটি ভেঙে পড়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এখনও অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে। তবে উদ্ধারকার্য চলছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে গত কয়েকদিনে ওই এলাকায় প্রায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল থেকে হাজারের বেশি শরণার্থীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। পাহাড়ের কোলে বা ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী শিবির করে বসবাস করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেও তাঁরা অস্থায়ী ঘর ছাড়তে চান না। আর তাতেই বিপদ বাড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনের তরফে খবর, কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তবে তাঁদের এখনও জমি দেওয়া হয়নি বাংলাদেশ সরকারের তরফে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিপদে পড়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।