ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ- পিটিআই ফাইল ছবিএকাধিক বার আমন্ত্রণ সত্ত্বেও BRICS সামিটে ভারতে আসেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, তারেক রহমান এলে, তাঁর সফর স্মরণীয় করে রাখবেন। তারপরেও আসেননি। BRICS-এ পুতিন, মোদী, জিনপিং, পেজেশকিয়ানদের সখ্য দেখে কি এ বার পস্তাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার? BRICS মিটতেই ভারতকে বন্ধুত্বের বার্তা দিল ঢাকা। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় মজবুত করার ইচ্ছে বাংলাদেশের।
নতুন করে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক চায় ঢাকা
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, ঢাকা চায় নতুন করে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে। এই প্রক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব। মোদ্দা বিষয়, পাকিস্তানের পাল্লায় পড়ে ঢাকা যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, BRICS-এ ভারতের দুনিয়াদারি দেখে এখন সুর নরম করছে বাংলাদেশ।
ভারতের একাধিক আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত ক্ষমতায় আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ভারতের আয়োজিত BRICS সম্মেলনে যোগ দেবেন না বলে ঢাকা জানানোর দু’দিন পর এই মন্তব্য সামনে এল। বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে BIMSTEC চেয়ারম্যান হিসেবে। বস্তুত, BRICS গোষ্ঠীর সদস্য দেশ নয় বাংলাদেশ। ঠিক যেমন পাকিস্তানও এই গোষ্ঠীতে নেই। দু’দিনের BRICS সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। ভারত বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পাশাপাশি, ফেব্রুয়ারি থেকেই তাঁর জন্য পৃথক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণও ছিল। কিন্তু ভারত বারবার বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও, ঢাকা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় চাইছে ঢাকা
এখন সুর নরম করে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলছেন, 'আমরা চাই, নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হোক, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই তা হওয়া উচিত। বহুপাক্ষিক মঞ্চে তা সম্ভব নয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ভারতমুখী অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক স্বার্থের দিকে নজর রেখে ভারসাম্যপূর্ণভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই ভারতকে দেখতে হবে।' এমনিতেই বিএনপি-র ভারত বিরোধিতার নজির রয়েছে। আবার বাংলাদেশে এখন যারা বিরোধী দল, অর্থাত্ জামাত ই ইসলামি, তারাও কট্টর ভারতবিরোধী।
'নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?'
হুমায়ুন কবীরের কথায়, 'আমাদের ভারত আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারতও অন্যান্য দেশের মতোই একটি দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত। সকালের জলখাবার ভারতে, দুপুরের খাবার ভারতে, রাতের খাবারও ভারতে, তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?'
বস্তুত, শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয়কে ঘিরেই বিএনপি সরকারের যাবতীয় মাথাব্যথা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিটিংয়ের রয়েছে তারেক রহমানের। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক। সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবেন। UN সাধারণ সভার ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।