চিন থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ চিন থেকে যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ। সেই দেশ সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিই এই বিষয়ে চিন সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'ডেইলি ওয়াদা' জানিয়েছে, ২৪টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই সংক্রান্ত চুক্তি এখনই চূড়ান্ত না হয়ে অগাস্টে হতে পারে।
Chengdu J-10CE এই যুদ্ধবিমানটি চিন রপ্তানি করে থাকে। পাকিস্তানের কাছেও রয়েছে এটি। তারাও চিনের কাছ থেকেই কিনেছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় এই বিমানই ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। ভারতের SU-30MKI, Sepecat Jaguar বা রাফালের মতো প্রচণ্ড শক্তিশালী বিমানগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছিল সেগুলিকে।
এই যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে সেই ২০০৯ সাল থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (BAF) অনেকটাই শক্তিশালী হবে। কারণ, তাদের হাতে আধুনিক কোনও যুদ্ধবিমান নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরেই চিন ও রাশিয়ার তৈরি সেকেলে হয়ে পড়া পুরনো মডেলের বিমান ব্যবহার করে আসছিল। তবে এই চুক্তির ফলে চিনের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়বে।
J-10CE কী, কেন বাংলাদেশ এই বিমান কিনছে?
J-10CE হল চেংদু J-10CE-র রপ্তানিযোগ্য মডেল। ফিফট জেনারেশনের এই বিমান চিনের সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে অন্যতম। WS-10B আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এই বিমানটি Mach 1.8 গতিতে চলতে সক্ষম। পাশাপাশি, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রসীমার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এটি। দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে পারা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই যুদ্ধবিমানটি অনেকগুলি অস্ত্র বা পেলোড বহনে সক্ষম। এর ১১টি হার্ডপয়েন্টে (অস্ত্র বহনের স্থান) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রসহ মোট ৫,৬০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র বহন করতে পারে। এর ফলে J-10CE শত্রুর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হোক বা স্থলভাগে হামলা, দুটোই সমান পারদর্শীতায় করতে পারে। J-10CE-এর অন্যতম প্রধান শক্তি এর আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ব্যবস্থা। শত্রুর জ্যামারকে উপেক্ষা করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারাও এর আর এক বৈশিষ্ট্য।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানের বহরে ৪০ থেকে ৪৪টি বিমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে প্রায় ৩৬টি পুরোনো ও সেকেলে চেংডু F-7/J-7 এবং আটটি রাশিয়ান মিগ-২৯ বিমান।
'ডেইলি ওয়াদা'-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি J-10CE যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ৪ কোটি ডলার হতে পারে। তবে এই বিমান রাফাল বা F-16—এর তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যায়।
যদি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অগাস্ট মাসে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষভাগে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বিমানগুলোর হাতে পেতে পারে বাংলাদেশ। ২৪টি বিমানের জন্য প্রায় ২২০ কোটি ডলার মূল্যের এই সামগ্রিক চুক্তির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তাও পাবে তারেক রহমানের দেশ।
অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশ লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটিকেও আধুনিকীকরণ করছে। ভারতীয় সীমান্ত থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার।
চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা কি ভারতের জন্য অশনি সঙ্কেত?
প্রতিরক্ষা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, চিন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে তাতে ভারতের তেমন কোনও লাভ বা ক্ষতি নেই। শিলং-ভিত্তিক ভারতীয় বিমান বাহিনীর 'ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড'-এর অধীনে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় চারটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। সেখানে সব সময় সুখোই, রাফালের মতো ৬০থেকে ৭০টি বিমান মোতায়েন থাকে। ফলে নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতেই থাকবে।
তবে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের দুই পাশেই (যেহেতু পাকিস্তানের কাছে ২০টি সক্রিয় বিমান রয়েছে এবং আরও ১৬টির অর্ডার দেওয়া হয়েছে) চিনের অত্য়াধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে তাই ভারতকে কিছুটা হলেও ভাবতে হতে পারে। তবে যুদ্ধবিমান হিসেবে রাফাল অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।