প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে। বাংলাদেশে ফের ভারত-বিরোধী স্লোগান। এবার তার নেপথ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটও। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে। সেই পরিস্থিতিতে পথে নেমেছে ন্যাশনাল সিটিজ়েন পার্টি (এনসিপি)। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ইস্তফা দাবি করেছে তারা। দাবি না মানলে দেশ জুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এনসিপি নেতারা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বক্তব্য বেড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের আমলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মুখে ভারত-বিরোধী মন্তব্য শোনা যায়। নির্বাচনের আগে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই সুর কিছুটা নরম হয়েছিল। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ফের সেই উত্তেজনা সামনে এসেছে।
জ্বালানি সঙ্কটে বিপাকে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানির অভাব। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রয়োজনীয় তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি এবং প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের উপর। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে পোশাক শিল্পেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৮.৫ শতাংশ। সংস্থার রিপোর্টে আরও দাবি, গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নীচে চলে গিয়েছেন।
এলপিজি-র দাম নিয়েও প্রশ্ন
এনসিপি সাংসদ আখতার হোসেনের অভিযোগ, কলকাতায় একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১,০০০ টাকা। অথচ বাংলাদেশে সেই দাম দ্বিগুণেরও বেশি। এই বিপুল ফারাকের কারণ কী, তা নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে জবাব চেয়েছেন তিনি। নাহিদ ইসলাম আবার তারেক রহমানকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি, তোলাবাজি ও হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি।
শুক্রবারের বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল জ্বালানি সঙ্কটের সমাধান এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহি। কিন্তু সেই মঞ্চ থেকেই ভারত-বিরোধী স্লোগান ওঠায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে প্রতিবেশী-বিরোধী রাজনীতি মিশে গেলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে তারেক সরকারের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। এক দিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সামলানো, অন্য দিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা।