মমতার পাশে মোফাক্কেরুল কেন?'আপনি বলুন সালটা দিতে। উনি যেই সালের ছবি দেবেন, সেই একই সালে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেখাব। এটা মেনে নেবেন তো?' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোফাক্কেরুল ইসলামের ছবি প্রসঙ্গে আজ সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই বললেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ।
আসলে মালদা কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম। তিনি মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ির ঘটনায় উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। আর আজ বিজেপির পক্ষ থেকে মোফাক্কেরুলের সঙ্গে মমতার একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মমতা ভাষণ দিচ্ছেন। আর পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোফাক্কেরুল। সেই নিয়ে রাজ্য সরকার এবং মমতাকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি।
ওদিকে আরও একটি ছবি পোস্ট করেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি তৃণমূল নেতা তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোফাক্কেরুল ইসলামের ছবি দেন। তাতে তিনি লেখেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে মোফাক্কেরুল ইসলামকে। তিনি মালদা কাণ্ডের মূলচক্রী। সেই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এই ছবি গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে, কীভাবে এই ধরনের ব্যক্তিদের আশকারা দেওয়া হচ্ছে? এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।'
যদিও এই ছবিগুলিকে একবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। এমনকী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে অনেকেই ছবি তোলেন। তিনি মোফাক্কেরুলকে চেনেন না।
মালদার ঘটনার পিছনে বিজেপি
এদিন তৃণমূলের সাংবাদিক সম্মেলনে শশী পাঁজা বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ পরিষ্কার করে দিয়েছেন এই ঘটনার পিছনে প্রত্যক্ষভাবে, পরোক্ষভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির হাত রয়েছে।'
পাশাপাশি তাঁর দাবি, ইলেকশন কমিশন মোফাক্কেরুল ইসলামকে পালাতে দিতে চাইছিল। সিআইডি গিয়ে ধরেছে।
বিক্ষোভ থাকবে
মালদার বিক্ষোভ সম্পর্কে শশী পাঁজা বলেন, 'বিক্ষোভ থাকবে না? মালদার লক্ষ লক্ষ নাম অ্যাডজুডিকেশনে রাখবেন, বিক্ষোভ তো হবেই। আড়ালে থাকলে হবে না। ইসিআই এবং বিজেপি পরিকল্পিতভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি করলেন কেন? ৫০ শতাংশ মানুষকে বললেন তোমার ভোটারধিকার থাকবে না। আর সেই বিজেপিই আবার ঝামেলা বাঁধাচ্ছে।'
প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না
কুনালের দাবি, এটা বিজেপি ষড়যন্ত্র করে করাচ্ছে। আর সেই ষড়যন্ত্রের শিকার সাধারণ মানুষ। তাতে আখেরে যাঁরা বিক্ষোভ করছেন, তাঁরাই সমস্যায় পড়বেন। তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন না। তাঁদেরই মামলা লড়তে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাই মাথায় ঠান্ডা রেখে প্ররোচনা এড়িয়ে যেতে বললেন কুনাল।