ভবানীপুরে দায়িত্বে জাভেদ২০২১-এও বাংলার ভোটে আলোচনায় ভবানীপুর। এবার এখানে লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারীর। আর সেই লড়াইতে বিজেপির শুভেন্দুকে পিছনে ফেলতে মরিয়া মমতার তৃণমূল। সেই মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে দল। আর সেই প্ল্যানিংয়ের অংশ হিসেবেই হঠাৎ করে ভবানীপুর কেন্দ্রের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব বদল করল ঘাসফুল। আগে এই ওয়ার্ডে দলের সুপ্রিমোকে জেতানোর দায়িত্ব ছিল তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির উপর। যদিও এখন সেই ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হল মন্ত্রী জাভেদ খানকে।
আর এহেন পরিবর্তনের পরই একাধিক প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে। অনেকেই বুঝতে চাইছেন, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? এর পিছনে ঠিক কোন অঙ্ক রয়েছে? আর সেই উত্তরটাই খোঁজার চেষ্টা করলাম আমরা।
শীর্ষনেতারা দায়িত্বে
এবার ভোটে প্রাথমিক ভাবে ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডে মমতাকে লিড দেওয়ার জন্য দলেরেই দু’জন শীর্ষনেতা দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তৃণমূলের সুব্রত বক্সী দায়িত্ব পেয়েছিলেন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের। অপরদিকে কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের আগেই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব বদল। সেখানে সুব্রতর জায়গায় এলেন জাভেদ।
বিজেপি এগিয়ে রয়েছে...
ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনও নিরাশ করেনি। তবে সেই কেন্দ্রেই একাধিক ওয়ার্ডে বারবার এগিয়ে থেকেছে বিজেপি। তার মধ্যে একটি ওয়ার্ড অবশ্যই ৬৩ নম্বর। এই ওয়ার্ডে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দেয়। গত লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপি ১৮৬৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। তাই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড যে সত্যিই তৃণমূলের গলার কাঁটা, সেটা খুব সহজেই অনুমেয়।
আর এবার সেই কাঁটা নামাতেই ওষুধ খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাভেদকে। তার উপর রেকর্ড ভোটে মমতাকে লিড দেওয়ার প্রত্যাশা রেখেছে দল। এখন দেখার সেই কাজে তিনি কীভাবে এই কাজটি সেরে ফেলেন।
টার্গেট সেই মুসলিম ভোট...
আসলে ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডেই রয়েছে অবাঙালিদের আধিপত্য। আর সেই তালিকায় ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডও রয়েছে। এখানে বাঙালির সংখ্যা খুবই কম। মাত্র ৮ শতাংশ বাঙালি ভোটার রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে অবাঙালির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ।
যদিও এখানে মুসলিম ভোটারদের হারও কিছু কম নয়। এখানে তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৪১ শতাংশে। আর এই ভোটটার দিকেই নজর রয়েছে তৃণমূলের। সেই ভোটকে একবারে নিজেদের পকেটে তুলতে মরিয়া প্রয়াস চালাবেন জাভেদ। এক্ষেত্রে যদি অন্তত ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটও পাওয়া যায়, তাহলে অবাঙালি এবং বাঙালি ভোটারের মধ্যে থেকে কিছু ভোট ম্যানেজ করে নিতে পারবে তৃণমূল। তাতেই তাদের এই ওয়ার্ডে জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর এই কারণেই অনেক হিসেব কষেই জাভেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
তৃণমূলেরই কাউন্সিলর
মাথায় রাখতে হবে, এই ২০১০ সাল থেকেই এই ওয়ার্ডে জিতে আসছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য। যদিও লোকসভা ভোটে সেখানেই পিছিয়ে যায় তৃণমূল। আর সেই রাহুর দশা কাটাতেই এবার জাভেদের উপর ভরসা রাখছে দল।
এখন অনেকেই বলতে পারেন, কেন ফিরহাদ হাকিমকে এই ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হল না? তার উত্তরে বলা যায়, এমনিতেই ভবানীপুরে একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ফিরহাদ। পাশাপাশি তাঁকে নিজের কেন্দ্রেও লড়তে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আর তাঁর উপর দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে না দল। তাই এবার জাভেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার দলনেত্রীকে এই ওয়ার্ড থেকে জেতাতে পারেন কি না কসবার প্রার্থী।