প্রার্থী তালিকায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার তুলনায় কম। পরিসংখ্যানই তা বলছে।Assam elections Muslim vote: ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র। ৭২২ প্রার্থী। কিন্তু মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কম। মুসলমান প্রার্থী যে নেই তা নয়। এমনও আসন আছে, যেখানে শুধুই মুসলিম প্রার্থী। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে একজনও মুসলিম নন। আর তা দেখেই বিশ্লেষকরা বলছেন, অসমে ভোটের অঙ্কে বৈষম্য স্পষ্ট।
আগামী ৯ এপ্রিল অসমে ভোটগ্রহণ। অসমের নির্বাচনী ময়দানে মোট ৭২২ জন প্রার্থী লড়াইয়ে নেমেছেন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ১৮৮ জন বা প্রায় ২৬ শতাংশ মুসলিম। অথচ রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশই মুসলিম। ফলে প্রার্থী তালিকায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার তুলনায় কম। পরিসংখ্যানই তা বলছে।
লক্ষ্যণীয়, বিজেপি তাদের ৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে এক জনকেও মুসলিম প্রার্থী দেয়নি। নর্থ ইস্ট ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (NEDA) ১৩ জন মুসলিম প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনই অসম গণ পরিষদ (AGP)-এর। বাকি একজন বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF)-এর। অর্থাৎ AGP-কে বাদ দিলে শাসক জোটের মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কার্যত শূন্যে নেমে আসে।
দলভিত্তিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (AIUDF) সর্বাধিক ৮৭ শতাংশ মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। AGP দিয়েছে ৪৬ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেস দিয়েছে ৩২ শতাংশ এবং কংগ্রেস দিয়েছে ১৮ শতাংশ মুসলিম প্রার্থী। জোটের হিসাবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন অসম মহাজোট (ASM) মোট ১২৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। তার মধ্যে ২২ জন মুসলিম (১৭ শতাংশ)। অন্যদিকে NEDA দিয়েছে ১২৭ জন প্রার্থী। তার মধ্যে মুসলিম মাত্র ১৩ জন (১০ শতাংশ)।
ভৌগোলিক দিক থেকেও এই বৈষম্য প্রকট। নিম্ন অসম এবং বরাক উপত্যকার কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে মুসলিম প্রার্থীদের উপস্থিতি বেশি। গৌরীপুর, জলেশ্বর, চামারিয়া এবং চেঙ্গা; এই চারটি কেন্দ্রে শুধুমাত্র মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। পাকাবেতবাড়ি ও আলগাপুর-কাটলিচেরা কেন্দ্রে যথাক্রমে ৮০ এবং ৯৪ শতাংশ প্রার্থী মুসলিম।
অন্যদিকে রাজ্যের ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৩টিতেই একজনও মুসলিম প্রার্থী নেই। এই কেন্দ্রগুলি মূলত উজান অসম, চা বাগান এলাকা এবং বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের অন্তর্গত। তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড় থেকে শুরু করে কোকরাঝাড়, তামুলপুর; এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মুসলিম প্রার্থীর অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
জেলা স্তরেও একই প্রবণতা। ধুবরি জেলায় মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, অন্যদিকে উজান অসমের একাধিক জেলায় এক জনও মুসলিম প্রার্থী নেই।
যে ১২টি কেন্দ্রে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী মুসলিম, সেখানে শাসক জোট এবং বিরোধী জোট উভয়েই মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। ফলে সরাসরি মুসলিম বনাম মুসলিম লড়াই তৈরি হয়েছে। এই আসনগুলিতে NEDA-র হয়ে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে AGP, বিজেপি নয়। অন্যদিকে ASM-এ কংগ্রেসের পাশাপাশি রাইজোর দল ও অসম জাতীয় পরিষদ কিছু আসনে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে।
নির্দল প্রার্থীদের মধ্যেও মুসলিম অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। মোট ২৫৭ জন নির্দল প্রার্থীর মধ্যে ৮৮ জন বা ৩৪ শতাংশ মুসলিম।
অসমের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম হলেও শাসক দলের প্রার্থী তালিকায় তাঁদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। জোটের ভারসাম্য বজায় রাখতে AGP-র উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির তুলনায় বেশি মুসলিম প্রার্থী দিলেও তা জনসংখ্যার অনুপাতে কম।
তবে ৮৩টি কেন্দ্রে একজনও মুসলিম প্রার্থী না থাকায় প্রশ্ন উঠছেই।
সব মিলিয়ে, অসমের ভোটে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৯ এপ্রিল ভোট, ফল প্রকাশ ৪ মে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই ঠিক করবেন এই সমীকরণে কার পাল্লা ভারী হয়।