Artemis 2 মিশনে ফের চাঁদের চারপাশে ঘুরল মানুষ।Artemis 2 mission: চাঁদের একটি পিঠই আমরা রোজ দেখি। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, চাঁদের গায়ের কলঙ্কগুলির পজিশন একই থাকে। চাঁদের উল্টো দিকটি আমরা পৃথিবী থেকে দেখতে পাই না। চাঁদের সেই উল্টো পিঠই, এই প্রথমবার চাক্ষুস করল মানুষ। নিজে চোখে প্রথমবার দেখল চাঁদের 'অদেখা' দিক। রহস্যে ভরা দক্ষিণ মেরুকে স্বচক্ষে দেখলেন নাসার মহাকাশচারীরা। দীর্ঘ ৫৩ বছর পর। Artemis 2 মিশনে ফের চাঁদের চারপাশে ঘুরল মানুষ। এই মিশনে মহাকাশচারীরা Orion spacecraft-এ চেপে চাঁদের একেবারে কাছে পৌঁছে যান। প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে তাঁরা চাঁদের ছবি তোলেন। গর্ত (ক্রেটার) আর পাথরের রং পরীক্ষা করেন।
সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল, তাঁরা চাঁদের ‘ফার সাইড’, অর্থাৎ যে দিকটি পৃথিবী থেকে কখনও দেখা যায় না, সেটাই নিজেদের চোখে দেখেছেন। চাঁদ সবসময় একই দিক পৃথিবীর দিকে রাখে। তাই অন্য দিকটি এতদিন নিজের চোখে কোনও মানুষ দেখেননি। শুধু ছবিই দেখেছেন।
NASA Artemis passing close to the Moon pic.twitter.com/jLvGoW1IR9
— Elon Musk (@elonmusk) April 7, 2026
আরও আশ্চর্যের বিষয়টি হল, মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণও দেখেছেন তাঁরা। সূর্য পুরো ঢেকে গিয়েছিল চাঁদের পিছনে। শুধু চারপাশে আলোর বিচ্ছুরণ। আক্ষরিক অর্থেই এক অপার্থিব দৃশ্য। এক মহাকাশচারী বলছেন, 'চোখে দেখছি বটে, কিন্তু নিজের মস্তিষ্কে তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না।'
এছাড়াও তাঁরা চাঁদের মাটিতে ছোট ছোট আঘাত চিহ্ন(মিটিওরাইট ইমপ্যাক্ট) দেখেছেন। ভবিষ্যতে মানুষ চাঁদে গেলে এই তথ্যগুলি খুব কাজে লাগবে।
ঠিক এই সময়েই, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ছিল ভারতের Chandrayaan-3-এর রোভার Pragyan rover। ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট ভারত প্রথমবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে।
কিন্তু দক্ষিণ মেরু নিয়ে এত মাতামাতি কেন?
এখানে এমন গর্ত আছে যেখানে কোটি কোটি বছর সূর্যের আলো পৌঁছয়নি। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। সেই অন্ধকার গর্তেই রয়েছে বরফের অস্তিত্ব।
প্রজ্ঞান রোভার ১৪ দিন কাজ করে চাঁদের মাটিতে সালফার-সহ একাধিক উপাদান খুঁজে পেয়েছে। এই তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবিষ্যতে মানুষ যদি চাঁদে থাকে, তাহলে এই বরফ থেকেই পানীয় জল, এমনকি রকেটের জ্বালানিও তৈরি করা সম্ভব।
কেন সবাই দক্ষিণ মেরুতে যেতে চাইছে?
চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখন যেন ‘সোনার খনি’। জল মানেই জীবন। তাই NASA-ও ভবিষ্যতে এখানেই মানুষ নামানোর পরিকল্পনা করছে। ২০২৮ সালের দিকে এখানেই মানুষ পাঠাতে চায়।
একজন বিজ্ঞানী তো বলেছেন, 'সৌরজগতের সবচেয়ে দামী জায়গা হতে পারে চাঁদের দক্ষিণ মেরু!'
ভাইরাল ভিডিওতে চাঁদের নতুন রূপ
এই মিশনেরই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ইলন মাস্ক (Elon Musk) সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চাঁদের একেবারে কাছ থেকে ছবি। যেন হাতে ছুঁয়ে দেখা যাবে!
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়টি কী জানেন? চাঁদের এই উল্টো পিঠ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৪০ মিনিট মহাকাশযানে সঙ্গে নাসার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে আবার সিগন্যাল ফিরে আসে। যদিও এটা যে হবেই, তা জানাই ছিল। মহাকাশযান ও পৃথিবীর মাঝে সেই সময়ে চাঁদ ছিল। সেই কারণেই এই ‘ব্ল্যাকআউট’।
একদিকে প্রথমবার চাঁদের অদেখা অংশ চাক্ষুস করল মানুষ। অন্যদিকে সেখানেই যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেল নাসা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ থেকেই 'চন্দ্রযুগে'র শুরু। সামনে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে। মত বিজ্ঞানী মহলের।