দুধ দুধ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্যকর, সুষম ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বেশীরভাগ মানুষ খুব সতর্কতার সঙ্গে দুধ কেনে এবং এর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ খুঁটিয়ে দেখে নেয়। তবে কখনও কখনও তাড়াহুড়োর কারণে ভুলে গেলে বা খেয়াল না করলে করলে দেখা যায়, দুধের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কোনও কিছু না ভেবেই দুধ ফেলে দেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এটি হয়তো আরও এক-দুদিন ভাল থাকবে, সেই দুধ ব্যবহার করে ফেলেন।
মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে সবসময় ভাবার কারণ নেই যে, ঠিক ওই দিনটিতেই দুধ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এই তারিখের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করাটাও ঠিক নয়। এটা বোঝা জরুরি যে, দুধের প্যাকেটের গায়ে লেখা তারিখের চেয়ে বরং এর গন্ধ, স্বাদ এবং গঠন বা ঘনত্ব দেখেই দুধের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই বিভ্রান্তি দূর করতে, জেনে নিন—ফ্রিজে রাখা দুধ কতদিন পর্যন্ত পান করার উপযোগী থাকে এবং ঘরে বসেই আপনি কীভাবে খুব সহজে শনাক্ত করতে পারবেন যে দুধটি এখনও ভাল আছে, নাকি নষ্ট হয়ে গেছে।
দুধের প্যাকেটে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আসলে কী বোঝানো হয়?
প্রথমেই এটি বোঝা জরুরি যে, দুধের প্যাকেটে লেখা প্রতিটি তারিখই যে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ হবে—এমন কোনও কথা নেই। কোম্পানিগুলো প্যাকেটে বিভিন্ন ধরনের তারিখ উল্লেখ করে থাকে; যেমন- স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য সেরা সময়, বিক্রয়ের শেষ সময় এবং ব্যবহারের শেষ সময়।
Best if used by: এই তারিখটি মূলত দুধের স্বাদ এবং গুণগত মান অটুট রাখার সময়সীমা নির্দেশ করে।
Sell-by: এই তারিখটি মূলত দোকানদারদের জন্য নির্দেশিত থাকে, যাতে তারা বুঝতে পারেন যে নির্দিষ্ট এই তারিখের মধ্যে তাদের কাছে থাকা দুধের মজুদ বা স্টক বিক্রি করে ফেলতে হবে।
Use-by: এই তারিখটিকে দুধের গুণগত মান বজায় থাকার শেষ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
যদি দুধে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা না যায়, তবে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পরেও—আরও এক-দুদিন পর্যন্ত—সেই দুধ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিরাপদ হতে পারে।
মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হওয়ার পর দুধ কতদিন পর্যন্ত নিরাপদ থাকে?
দুধের 'শেলফ লাইফ' বা কতদিন পর্যন্ত এটি ভাল থাকবে, তা নির্ভর করে দুধের প্যাকেটটি খোলা হয়েছে নাকি এখনো সিল করা অবস্থায় আছে—তার ওপর।
দুধের অবস্থা কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে?
*খোলা প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হওয়ার পরেও দুধটি প্রায় ৩ দিন পর্যন্ত পান করার উপযোগী থাকে।
* বন্ধ প্যাকেট যদি ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় (৪° সেলসিয়াস) সংরক্ষণ করা হয়, তবে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হওয়ার পরেও আপনি এটি ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
* তবে মনে রাখবেন, এই নিয়মটি শুধুমাত্র 'পাস্তুরিত দুধ'-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা সাধারণত দোকানপাটে কিনতে পাওয়া যায়। কাঁচা দুধ খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং তা থেকে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। নষ্ট দুধ চেনার চারটি সহজ উপায়
আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে দুধটি ভাল আছে কি না, তবে নিচের চারটি ধাপ অনুসরণ করে তা পরীক্ষা করে দেখুন
গন্ধ শুঁকে দেখুন: নষ্ট দুধে টক বা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে। যদি গন্ধটি অপ্রীতিকর মনে হয়, তবে অবিলম্বে দুধটি ফেলে দিন।
রং পরীক্ষা করুন: দুধের রং সাধারণত সাদা হওয়া উচিত। যদি দুধে সামান্য হলদে আভা দেখা যায়, অথবা নীলচে/কালো ছোপ বা ছত্রাক জমে থাকে, তবে বুঝতে হবে দুধটি নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘনত্ব বা গঠন পরীক্ষা করুন: যদি দুধে দলা বা ছানার মতো জমাট বাঁধতে শুরু করে, অথবা দেখতে অনেকটা দইয়ের মতো মনে হয়, তবে বুঝতে হবে দুধটি ছানা কেটে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে।
স্বাদ নিয়ে দেখুন: যদি ওপরের তিনটি পদ্ধতি কাজে না আসে, তবে সামান্য একটু দুধ মুখে দিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে দেখুন। যদি দুধের স্বাদ টক বা তিতকুটে মনে হয়, তবে তা ব্যবহার করবেন না।
দুধ দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ রাখার কিছু টিপস
ফ্রিজের দরজার তাকে দুধ রাখবেন না: আমরা অনেকেই দুধের বোতল ফ্রিজের দরজার তাকে রেখে দিই, যা একটি ভুল অভ্যাস। বারবার দরজা খোলার ফলে ওই অংশের তাপমাত্রা ওঠানামা করতে থাকে। তাই দুধ সবসময় ফ্রিজের পেছনের তাকে রাখুন, যেখানে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম বা বেশি ঠান্ডা থাকে।
ফ্রিজার: আপনি যদি বুঝতে পারেন যে কেনা দুধ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেয়ে শেষ করতে পারবেন না, তবে তা ফ্রিজারে রেখে জমিয়ে দিতে পারেন। এতে দুধের সতেজ থাকার মেয়াদ বা 'শেলফ লাইফ' উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে ব্যবহারের আগে দুধটি পুরোপুরি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না আসা পর্যন্ত বা বরফ গলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে ভুলবেন না।