একজোট টলিপাড়া‘প্রিয় রাহুলে’র জন্য একজোট বাংলা সিনেদুনিয়া। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার এহেন মর্মান্তিক পরিণতি যে সমূহ সিনেইন্ডাস্ট্রির শিল্পী, কলাকুশলীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ভবিষ্যতে যাতে টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ায় আর কোনও সদস্যকে এমন পরিণতির শিকার না হতে হয়, তার জন্য আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পা এবং প্রযোজকরা একজোট হয়ে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে দীর্ঘ বৈঠকের পর আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ম্যাজিক মোমেন্ট প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে টলিপাড়ার কেউ কাজ করবে না।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জড়ো হন প্রসেনজিৎ, প্রিয়াঙ্কা সরকার, ঋতুপর্ণা, দেব, শুভশ্রী, রঞ্জি মল্লিক, কোয়েল সহ টলিউড ও টেলিপাড়ার একাধিক তারকারা। উপস্থিত ছিলেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। দীর্ঘ বৈঠক চলার পর প্রসেনজিৎ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আজকে এতটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন ও বাংলা সিনেমার প্রযোজকদের সঙ্গে নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৫ বছর মানুষ মনে রাখবে। এটৈর জন্য আমাদের কারোর কোনও ক্রেডিট নেই। একজনেরই ক্রেডিট এখানে, যে ছেলেটা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, সে চোখ খুলিয়ে দিয়ে গেছে। ওঁর জন্যই আজ এতজন কলা-কুশলী, শিল্পী সবাই একসঙ্গে। বুম্বাদা বলেন, সবার নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর প্রসেনজিৎ রঞ্জিত মল্লিককে বলতে বলেন বাকি সিদ্ধান্তের কথা।
রঞ্জিত মল্লিক প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন যে তিনি এক সপ্তাহ ছিলেন না। এরপর তিনি বলেন, যারা রাহুলকে আমাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করা সম্ভব নয়। প্রসেনজিৎ বলেন, ওই প্রযোজনা সংস্থা, ওই প্রযোজনা সংস্থার নামের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কারোর সঙ্গে আমরা কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না। যতক্ষণ না প্রকাশ্যে জানতে পারি, আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে আমাদের ছেড়ে চলে গেল, কীভাবে ছেড়ে চলে গেল। আমাদের একটাই প্রশ্ন। এটাই আমরা জানতে চাই। এরপরই প্রসেনজিৎ জানান যে আর কর্মবিরতি নেই, বুধবার থেকেই আবার সবাই কাজ শুরু করে দেবেন। টেলিভিশন, ফিল্ম সবক্ষেত্রেই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। শুধু একজন, ম্যাজিক মোমেন্ট ও এই নামের সঙ্গে যুক্ত যারা, তাদের সঙ্গে কোনও কাজ নয়। প্রসেনজিৎ বলেন, আমাদের কারোর সঙ্গে কোনও লড়াই নেই। কোনও ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম বলে আর কিছু থাকবে না। আমরা একটাই পরিবার। আর সেই পরিবার রাহুলকে হারিয়েছে। ওঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানাতে হবে এবং অবশ্যই সেই যুক্তিতে প্রিয়াঙ্কার সম্মতি থাকতে হবে। রাহুল সত্যিই আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেল। ৮-৯ দিন হয়ে গেল, আর্টিস্ট ফোরাম যা আইনত পদক্ষেপ করার করেছে, কারণ রাহুল পরিবারের অংশ ছিল। কিন্তু তার পরবর্তীকালে আমরা, আমাদের পরিবারের তরফ থেকে ঠিক করেছে, ওই মানুষগুলোর সঙ্গে কাজ করব না, যারা ঘরের ছেলেকে এভাবে নিয়ে গেছে। এর কারণ বলতে হবে প্রকাশ্যে, ফাইনালি প্রিয়াঙ্কাকে বলতে হবে হ্যাঁ এটা মানলাম। এখনও ৯দিন হয়ে গেছে বলেনি, সত্যিটা জানতে হবে। কী ঘটনা আসলে ঘটেছিল, সেটা প্রযোজনা সংস্থাকে বলতেই হবে। এছাড়াও জাতীয় স্তরেও নিষিদ্ধ করা হল লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কেও।
ইন্ডাস্ট্রির সকলের মিলিত সিদ্ধান্ত, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-র সঙ্গে কোনও শিল্পী কাজ করবেন না। যতদিন পর্যন্ত রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হচ্ছে এবং সত্য প্রকাশ্যে আসছে ততদিন ওই নির্দিষ্ট সংস্থা ইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ। এছাড়াও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কলাকুশলীদের নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে SOP আনা হচ্ছে।