
স্পিকারকে চিঠি হেমা মালিনীর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তারই মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাক চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী হেমা মালিনী। তাঁর দাবি, বাংলায় কালচালার ফ্যাসিজম চলছে। স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে রাহুলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ সরাসরি না তুললেও অভিনেত্রীর ইঙ্গিত যে সেদিকেই- এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
হেমা মালিনী চিঠিতে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে কালচারাল ফ্যাসিবাদ চলছে। এর ফলে শিল্পীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাঁদের জীবীকাও আজ প্রশ্নের মুখে।
হেমা মালিনীর কথায়,'পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহান ব্যক্তিরা জন্মগ্রহণ করেছেন। এক সময় ওই রাজ্য ছিল সাংস্কৃতিক রাজধানী। আজ আর সেই পরিস্থিতি নেই। সাধারণ মানুষ, শিল্পীরা তাঁদের শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষা করতে লড়াই করছে।'
হেমা মালিনী নিজের উদাহরণও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কলকাতায় তাঁকে আসতে দেওয়া হয় না। তাঁর অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলে না। তাঁকে নিরাপত্তা দিতে অস্বীকার করা হয়। ফলে আয়োজরা তাঁকে ডাকতে ভয় পান। সেজন্য তিনি কলকাতায় যেতে পারেন না।
তাঁর মন্তব্য, 'গত ১৫ মার্চ যখন আমার সেখানে পারফর্ম করার কথা ছিল, তখনও আমাদের থিয়েটার না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কারণ আমি BJP-র সদস্য। তারা ভয় পাচ্ছে, সেই কারণেই এমন আচরণ করছে। একজন শিল্পী হিসেবে আমি বলতে পারি, শুধু আমার সঙ্গেই নয়, আরও অনেক শিল্পীর সঙ্গেই অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছে। অনেক শিল্পীকেই যেতে দেওয়া হয়নি।'

হেমা মালিনীর এই চিঠি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের দাবি, রাহুলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ সরাসরি না তুললেও শিল্পীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে সেই ঘটনাকেই ইঙ্গিত করেছেন ড্রিম গার্ল। ফলে অভিনেতার মৃত্যুর প্রসঙ্গ পৌঁছে গেল লোকসভাতেও।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার তালসারিতে সমুদ্রে নেমে মারা যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।